শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৪, ২০২৬, ১২:১১ পিএম

সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি

সচিবালয়ে নতুন নির্দেশনা

সেবাগ্রহণকারী নাগরিকদের সুবিধা প্রদান এবং প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনতে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতির বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এই পরিপত্র অনুযায়ী, সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ অফিসে অবস্থান করতে হবে। 

এর আগেও ২০২১ এবং ২০১৯ সালে একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। মূলত মাঠপর্যায়ে এবং কেন্দ্রীয় দপ্তরে কাজের সমন্বয় বৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতেই এই কড়াকড়ি পুনরায় আরোপ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনেক সময় কর্মকর্তারা সকালে অফিসে আসার পথে বিভিন্ন দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেমিনার, ওয়ার্কশপ, প্রশিক্ষণ বা ব্যাংক-হাসপাতালের মতো জায়গায় যাওয়ার ফলে তারা নির্ধারিত সময়ে ডেস্কে উপস্থিত থাকতে পারেন না।

 এতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এই পরিস্থিতি নিরসনে দাপ্তরিক কর্মসূচি এমনভাবে প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে যাতে সকালের এই ৪০ মিনিট সময় কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়।সরকারি কর্মচারী নিয়মিত উপস্থিতি বিধিমালা ২০১৯ এবং সচিবালয় নির্দেশমালা ২০২৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে দপ্তরে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করা প্রত্যেক কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক। তবে এই নির্দেশনার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শিক্ষক, যারা প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। 

এ ছাড়া হাসপাতাল, জেলখানা, সংবাদ মাধ্যম বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রোস্টার ডিউটি এবং জরুরি গ্রাহক সেবায় সরাসরি যুক্ত কর্মীদের এই সময়সীমার বাইরে রাখা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ভিভিআইপি প্রটোকল বা আকস্মিক বড় দুর্ঘটনা মোকাবিলায় নিয়োজিতদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম শিথিল থাকবে।

পরিপত্রে আরও কঠোরভাবে জানানো হয়েছে যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। দাপ্তরিক জরুরি কাজ ছাড়া অফিস চলাকালীন ব্যক্তিগত প্রয়োজনে দপ্তর ত্যাগের ওপরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।