মার্চ ৭, ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় আগামীকাল রবিবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট মাঠে নামছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, কিছু কিছু পেট্রোল পাম্পে তেল না পাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এই কঠোর তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হলেও কেন সংকট দেখা দিচ্ছে সেই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, সরকার প্রতিটি পাম্পে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করছে। যদি কোনো পাম্প তাদের একদিনের বরাদ্দ নির্ধারিত সময়ের আগেই বিক্রি করে ফেলে, তবে পরবর্তী সরবরাহ না আসা পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হয়।
তবে কোনো পাম্প মালিক যদি অধিক লাভের আশায় কিংবা কৃত্রিম সংকটের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই কাল থেকে প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করা হচ্ছে এবং দেশের সর্বত্র মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করবে।মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বর্তমানে চালু থাকা দুই লিটার তেলের রেশনিং ব্যবস্থা এখনই বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন।
তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না থাকায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এটি মূলত ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট এড়াতে সঞ্চয়ের একটি প্রচেষ্টা। কিন্তু এই রেশনিং দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করার চেষ্টা করছেন।
মন্ত্রী জনগণের এই আচরণকে স্বাভাবিক মনস্তত্ত্ব হিসেবে অভিহিত করলেও সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরেও মানুষ পরবর্তী সময়ে তেল পাওয়া যাবে না এই আশঙ্কায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মজুত করার চেষ্টা করছেন, যা আসলে পরিস্থিতির জটিলতা বাড়াচ্ছে। মন্ত্রীর মতে, আমাদের জ্বালানির কোনো অভাব নেই এবং কাতারসহ বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানির কাজ নিয়মিত চলছে। বর্তমানে দেশে এলএনজি ও এলপিজিসহ সব ধরনের তেলের যথেষ্ট মজুত রয়েছে।
পরিশেষে মন্ত্রী দেশবাসীকে সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমাদের মিতব্যয়ী হতে হবে। তাড়াহুড়া করে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রয়োজন নেই কারণ সরকার প্রতিটি পাম্পে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করছে। সরবরাহ শৃঙ্খলায় কোনো ব্যঘাত ঘটবে না এবং তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কেউ তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন