মার্চ ১১, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
আজ বুধবার ১১ মার্চ নতুন করে আরও ২৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১২ দিনে ঢাকা থেকে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯১টিতে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা বেবিচক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ হওয়ার পর থেকে ঢাকা বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিনে ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এরপর ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যায়।
এই ধারাবাহিকতায় ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি এবং ৭ ও ৮ মার্চ যথাক্রমে ২৮টি করে ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এছাড়া ৯ মার্চ ৩৩টি এবং ১০ মার্চ আরও ৩২টি ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।আজ বুধবার বাতিল হওয়া ২৪টি ফ্লাইটের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নামী এয়ারলাইনসের নাম রয়েছে। এর মধ্যে কুয়েত এয়ারের দুটি এবং এয়ার অ্যারাবিয়ার চারটি ফ্লাইট রয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস এয়ারলাইনস, জাজিরা এয়ার এবং ফ্লাইদুবাইয়েরও চারটি করে ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া গালফ এয়ারের দুটি ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল হয়েছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে এয়ারলাইনসগুলো চাইলেও বিকল্প পথে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। কিছু বিমান ঘুরপথে চলাচলের চেষ্টা করলেও জ্বালানি খরচ ও সময়ের আধিক্যের কারণে অনেক কোম্পানি ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই গণবাতিলের কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। বিমানবন্দর এলাকায় দেখা গেছে টিকিট প্রত্যাশী ও আটকে পড়া যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন। বেবিচক কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং এয়ারলাইনসগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি কাটবে না বলে মনে করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন