মার্চ ১১, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন বিভিন্ন আসনের পাঁচজন প্রার্থী। বুধবার (১১ মার্চ) নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে তারা পৃথকভাবে এই মামলাগুলো দাখিল করেন। মামলা করা প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৩ আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী এবং গাইবান্ধা-৫, ঢাকা-৫, পাবনা-৩ ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা রয়েছেন।
তারা সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ও ফলাফলে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন।নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭ ভোট। মামুনুল হক এই ফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে শরণাপন্ন হয়েছেন। অন্যদিকে গাইবান্ধা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়্যারেছ ৮৯ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
তার বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. ফারুক আলম সরকার, যিনি ৭৩ হাজার ৪৮৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।একইভাবে ঢাকা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেনের জয়কে চ্যালেঞ্জ করেছেন বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ। এই আসনে কামাল হোসেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট পেলেও নবী উল্লাহর অভিযোগ তার প্রাপ্ত ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোটের হিসেবে গরমিল রয়েছে।
কুষ্টিয়া-৪ আসনেও জামায়াত প্রার্থী মো. আফজাল হোসেনের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। আফজাল হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে জয়ী হলেও রুমী ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট পাওয়ার দাবি করে কারচুপির প্রতিকার চেয়েছেন।
এছাড়া পাবনা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থীও একই অভিযোগে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। প্রার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনের দিন অনেক কেন্দ্রে অস্বাভাবিকভাবে ভোট জালিয়াতি করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত ফলাফলে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ৩০টি আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে করা এই মামলাগুলোর শুনানি পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন