মার্চ ১২, ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের ভাষণকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ১১০টি সংগঠনের মোর্চা `জুলাই ঐক্য`। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়োগকৃত এই রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে জনতার সংসদকে অপবিত্র করেছেন।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্ত মাড়িয়ে এই রাষ্ট্রপতি কোনোভাবেই সংসদে ভাষণ দেওয়ার নৈতিক অধিকার রাখেন না বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়। গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করা সংগঠনগুলোর এই মোর্চা রাষ্ট্রপতির অবিলম্বে অপসারণ এবং অভিশংসন দাবি করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জুলাই ঐক্য সরকারি দল বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে বলেছে যে, রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে বিএনপি মূলত জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে।
তাদের মতে, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল হিসেবে বিএনপির এই অবস্থান শহীদদের আত্মত্যাগের অবমাননা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি জুলাইয়ের আদর্শ অনুযায়ী শপথ গ্রহণ না করে সরাসরি এই স্পিরিটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সাধারণ ছাত্র-জনতা আশা করেছিল বিএনপি সংবিধান সংস্কারের পথে হাঁটবে, কিন্তু তারা উল্টো ফ্যাসিবাদের ধারক হিসেবে পরিচিত এই রাষ্ট্রপতিকে দিয়েই প্রথম অধিবেশন শুরু করিয়েছে।
জুলাই ঐক্যের পক্ষ থেকে বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের ফলেই আজ তারেক রহমানসহ তার পরিবার দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন এবং দলের অন্যান্য নেতারা কারামুক্ত হতে পেরেছেন। জুলাই না হলে সালাহউদ্দিন আহমেদকে এখনও শিলংয়ে থাকতে হতো এবং শত শত রাজনৈতিক নেতাকে আয়নাঘরের অন্ধকারে বন্দি থাকতে হতো। এই প্রেক্ষাপটে জুলাইয়ের চেতনাকে অস্বীকার করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে বলে মোর্চাটি সতর্ক করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনার মসনদ উল্টে দিতে জনতার মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছিল, তাই জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করলে বর্তমান সরকারকেও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে পদ থেকে অপসারিত করতে হবে।
একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং যাবতীয় ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। জুলাই ঐক্য ঘোষণা দিয়েছে যে, এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে রাজপথে পুনরায় গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। ছাত্র-জনতা যেমন হাসিনার পুলিশ বাহিনীকে তোয়াক্কা করেনি, তেমনি যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা আবারও কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলতে প্রস্তুত রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন