মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও ভোক্তাদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পেট্রোল পাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও প্রশাসনের জরুরি সহায়তা চেয়েছে মালিক সমিতি। সোমবার ২৩ মার্চ দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এক বিবৃতিতে জানান বর্তমানে ইরানকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল ডিপোগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এই সরবরাহ সংকট আগামীতে আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যা ফিলিং স্টেশনগুলোতে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। তেল না পেয়ে অনেক জায়গায় পাম্প কর্মীদের মারধর ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে।
এমন পরিস্থিতিতে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি। ইতিমধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছে এই মর্মে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পাম্পগুলো সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কর্মরত কর্মীদের নিজ নিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি সরবরাহ ও বণ্টন নিয়ে আলাদা একটি অভিযোগ তুলেছে রাজশাহী বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রতন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয় বাঘাবাড়ি ডিপোসহ বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল ও অকটেন বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্যাংক লরির ধারণক্ষমতা বিবেচনা করা হচ্ছে না। ট্যাংক লরির নির্দিষ্ট ক্ষমতার চেয়ে কম বরাদ্দ দেওয়ায় পরিবহন খরচ ও ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা অয়েল কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান এবং ট্যাংক লরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে। সংকটকালীন এই সময়ে তেল বণ্টন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত করার ওপর জোর দিয়েছেন পাম্প মালিকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন