মার্চ ২৬, ২০২৬, ১১:৩২ এএম
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের পর প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় গাড়ি ও জাতীয় পতাকা ব্যবহার করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাওয়ার সময় তিনি এই রাষ্ট্রীয় প্রটোকল গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ ভোরে প্রধানমন্ত্রী তার গুলশানের বাসভবন থেকে নির্ধারিত সরকারি গাড়িতে চড়ে সাভারের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এই গাড়ির সামনে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য নির্ধারিত পতাকাও শোভা পাচ্ছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত ব্যক্তিগত সাদা গাড়ি ব্যবহার করে আসছিলেন যেখানে কোনো পতাকার ব্যবহার ছিল না।
এদিন প্রধানমন্ত্রী ভোর ৫টা ৫৩ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। এরপর তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে যান। সেখানে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি পুনরায় গুলশানের বাসভবনে ফিরে যান।
আইনগত দিক থেকে ‘বাংলাদেশ ফ্ল্যাগ রুলস, ১৯৭২’ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তার গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার রাখেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে বা ব্যক্তিগত পছন্দ থেকে পতাকা ব্যবহার করেননি। অবশেষে ২৬ মার্চের বিশেষ দিনে তিনি এই রাষ্ট্রীয় রীতি অনুসরণ করলেন। অন্যদিকে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন ও জ্বালানি সাশ্রয় নীতির অংশ হিসেবে এবারের কর্মসূচিতে বিশেষ পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে। ভিভিআইপিদের চলাচলের ক্ষেত্রে প্রটোকল ও যানবাহনের সংখ্যা অনেকটা সীমিত রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান যে সাশ্রয়ী নীতির কারণে এবার মন্ত্রিসভার সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে বাসে করে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাতায়াত করেছেন। এতে প্রায় সাড়ে চার হাজার লিটার জ্বালানি সাশ্রয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও প্রটোকল ও পতাকা ব্যবহার করলেও তার বহরে যানবাহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় নতুনত্ব এবং সংযমের এই বার্তাকে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন