সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ২৮, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সারদায় পুলিশ কুচকাওয়াজ

রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, পুলিশ বাহিনী কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করবে না। 

বরং এই বাহিনীকে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান যে, পুলিশ বাহিনীকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করতে সরকার ইতোমধ্যে পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। 

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোয় পুলিশকে একটি নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করানোই এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এই সংস্কারের ফলে পুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ খুব দ্রুতই এর ইতিবাচক সুফল ভোগ করতে পারবে।নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হবে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখা। 

মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সময় কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আইনের শাসন সমুন্নত রাখাই হবে তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। জনগণের আস্থা অর্জন করতে না পারলে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পুলিশের লক্ষ্য পূরণ হবে না। সে কারণে প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে আধুনিক প্রযুক্তি ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবীন কর্মকর্তাদের সুসজ্জিত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পদক তুলে দেন। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের এই নতুন কর্মকর্তাদের যোগদানের ফলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের এই সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং জননিরাপত্তায় এর প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।