সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল কিনবে সরকার

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল কিনবে সরকার

জ্বালানি তেল আমদানি

জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার কথা বিবেচনা করে এই বিশাল পরিমাণ তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি।

 মূলত সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি এবং জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে এই জ্বালানি সংগ্রহ করা হবে।বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। 

এই প্রেক্ষাপটে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটসের কাছ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে এই তেল সংগ্রহ করা হবে যাতে আপৎকালীন সময়ে কোনো ধরনের জ্বালানি ঘাটতি তৈরি না হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে আসা অন্য একটি প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে মানসম্মত ডিজেল সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকের (ইএমকেআই) কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন এন৫৯০-১০ পিপিএম সালফার মানমাত্রার ডিজেল কেনা হবে। উন্নত মানের এই ডিজেল দেশের শিল্প ও পরিবহন খাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কাজাখস্তানের এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এছাড়াও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান পি.টি. বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন) থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস অয়েল বা ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ০.৫ শতাংশ সালফার সমৃদ্ধ এই জ্বালানি তেলের প্রস্তাবটিও আজকের বৈঠকে সবুজ সংকেত পেয়েছে। 

জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই আমদানির ফলে সামনের মাসগুলোতে দেশে জ্বালানির কোনো সংকট থাকবে না এবং বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের বিকল্প ও নির্ভরযোগ্য উৎস ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে। আজকের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে এক ধরনের স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।