এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জাতীয় সংসদে জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে তিনি বর্তমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন সমন্বয় না হওয়ার বিষয়টি সরকারের নজরে আনেন।
দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় দেশের প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি পরিবার কষ্টে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।সংসদ অধিবেশনে নিজের বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
এখন ২০২৬ সাল চলছে এবং গত ১১ বছরে কোনো নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হয়নি। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে মুদ্রাস্ফীতি ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির সকল কর্মচারীর জীবনযাত্রার মান চরম সংকটে পড়েছে।
তিনি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এই বিশাল সংখ্যক পরিবারের স্বার্থে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কোনো প্রস্তাব পাঠানো হবে কি না।হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী সংসদকে জানান যে, সরকার বিষয়টির গুরুত্ব অনুভব করে ইতোমধ্যে একটি পে কমিশন গঠন করেছে। তবে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সরাসরি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে যদি নির্দিষ্ট কোনো পৃথক নোটিশ দেওয়া হয়, তবে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিস্তারিত তথ্য মহান সংসদে উপস্থাপন করবেন।
দীর্ঘদিন ধরে বেতন অপরিবর্তিত থাকায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সংসদে এই আলোচনার মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছালো। ১১ বছর আগের বেতন কাঠামো দিয়ে বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে টিকে থাকা যে কঠিন, সেটি সংসদ সদস্যের প্রশ্নে উঠে আসে। সরকারের পক্ষ থেকে পে কমিশন গঠনের তথ্য আসায় এখন দেখার বিষয় নতুন বেতন কাঠামো কবে নাগাদ কার্যকর হয়। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকারি কর্মচারীরা এই পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন