এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবিতে একমত হতে না পেরে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। বুধবার বিকেলে সংসদ অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই ঘোষণা দেন।
মূলত সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে সরকারি দলের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় এবং বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রতিবাদস্বরূপ তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবিকে কেন্দ্র করে। এই প্রশ্নে সংসদে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকরী সমাধান না আসায় বিরোধী দল ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনের আগে সরকারি ও বিরোধী দলসহ সব পক্ষই সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে একমত হয়েছিল।
এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের বিষয় নয়, বরং জাতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এখন সংসদে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। দেশবাসীর রায়ের অবমূল্যায়ন মেনে নেওয়া বিরোধী দলের পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতাকে তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণ করতে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন যে, ওয়াকআউট করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে তিনি সংসদ সদস্যদের একটু অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে জানান যে, কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। স্পিকারের মতে, সেই প্রস্তাবে বিরোধী দলের অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে এবং সেখানে মন খুলে কথা বলার সুযোগ থাকবে। তাই তিনি সংসদ ত্যাগ করার আগে সেই প্রস্তাবের ভাগ্য দেখার জন্য অনুরোধ করেন।
তবে স্পিকারের এই অনুরোধে সায় দেননি বিরোধী দলীয় নেতা। ডা. শফিকুর রহমান পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন যে, মূল নোটিশকে আড়াল করতেই নতুন নোটিশ বা মুলতবি প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তিনি একে প্রতিবাদের মূল সুরকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন। এরপরই তিনি এবং তাঁর দলের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
এই ওয়াকআউটের ফলে সংসদ অধিবেশনে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়। বিরোধী দলের দাবি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে এখন নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন