এপ্রিল ২, ২০২৬, ১১:২৪ এএম
বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট মোকাবিলায় সরকারি চাকুরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধির বিষয়ে আজ বড় ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য উত্থাপন করার কথা রয়েছে।
মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ মজুত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল হিসেবেই সরকার এমন সাশ্রয়ী পদক্ষেপের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। নতুন করে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে হাতে থাকা মজুত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সাজাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
এমন সংকটময় মুহূর্তে সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করতে সাপ্তাহিক ছুটি এক বা দুদিন বাড়ানোর প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। মন্ত্রিসভার এই বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন মিললে আজই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।একই সাথে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোর স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে তিন দিন সরাসরি পাঠদানের পরিবর্তে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি মন্ত্রিসভার আলোচ্য সূচিতে স্থান পেয়েছে।
এর আগে গত কয়েকদিনে জ্বালানি সাশ্রয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে একাধিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সব সভার সুপারিশগুলো আজ মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। অনলাইন ক্লাস চালু হলে পরিবহনের জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি যানজটও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি খাতে যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে সরকার বিলাসিতা পরিহার ও ব্যয় সংকোচনের নীতি গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যেই মূলত ছুটির দিন বাড়ানো এবং অনলাইন ক্লাসের মতো বিকল্প ব্যবস্থাগুলো সামনে আনা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘমেয়াদী হবে নাকি সাময়িক সংকটের জন্য নেওয়া হচ্ছে, তা মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বিস্তারিত জানা যাবে। সাধারণ মানুষ এবং সরকারি কর্মচারীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সিদ্ধান্ত জনজীবনে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন