এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিখোঁজ হওয়া প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বিষয়ে জাতীয় সংসদে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে ইলিয়াস আলীর হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই বিচারহীন বা আনপানিস্টড রাখা হবে না।
এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে তিনি ইলিয়াস আলীর স্ত্রী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিস দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। স্পিকারের মতে এই সংসদের মর্যাদা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে একটি পয়েন্ট অব অর্ডারের ওপর আলোচনা চলাকালে স্পিকার এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সরকারি দলের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনের সূত্র ধরে সংসদে ইলিয়াস আলীর গুম ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
দুলু তার বক্তব্যে দাবি করেন যে ২০১২ সালের ১৭ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ইলিয়াস আলীকে রাজধানীর বনানী থেকে তুলে নিয়ে র্যাব-১ এর সদর দপ্তরে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর লাশ সাভারের ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদপত্রে খবর এসেছে। এই জঘন্য অপরাধকে তিনি আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তুলনা করেন।হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু তার বক্তব্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন যে তৎকালীন সরকার প্রধানের নির্দেশ ছাড়া এই ধরণের গুম ও খুনের ঘটনা ঘটা অসম্ভব ছিল। তিনি সেই সময়ের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তার শিশু সন্তানকে নিয়ে শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে স্বামীর সন্ধান চেয়েছিলেন কিন্তু তখন কেবল আশ্বাস দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দুলু আবেগাপ্লুত হয়ে আরও বলেন যে ইলিয়াস আলী কেবল তার একজন রাজনৈতিক সহকর্মীই ছিলেন না বরং একজন অত্যন্ত প্রিয় বন্ধুও ছিলেন।
আজ তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো বর্তমান সংসদে এই অধিবেশনে একসাথে উপস্থিত থাকতে পারতেন।স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আলোচনার এই পর্যায়ে বিষয়টিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং জাতীয় পর্যায়ের একটি গুরুতর ইস্যু হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন যে ইলিয়াস আলী এদেশের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং উঠতি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন যার নিখোঁজ হওয়া সারা দেশে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।
স্পিকার আরও উল্লেখ করেন যে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এই ধরণের আরও কিছু সমজাতীয় নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেছে। ফলে ইলিয়াস আলীর এই ট্র্যাজিক ঘটনার ফয়সালা করার ক্ষেত্রে ট্রাইবুনাল বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হতে পারে। পুরো সংসদ কক্ষ এসময় পিনপতন নীরবতায় ইলিয়াস আলীর বিষয়ে এই আলোচনার সাক্ষী হয় এবং সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন যে দীর্ঘ ১৪ বছর পর হলেও এই রহস্যের জট এবার খুলবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন