বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

১৬ থেকে ১৮ বছরের শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে গুরুতর অপরাধে

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

১৬ থেকে ১৮ বছরের শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে গুরুতর অপরাধে

কিশোর অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ

দেশের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত শিশুদের ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোররাই হত্যা ও ধর্ষণের মতো ভয়ংকর অপরাধে বেশি জড়াচ্ছে। আইন কমিশনের এই প্রতিবেদনে কিশোর শিশু অপরাধ নিয়ে এক উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। কমিশনের আয়োজিত সেমিনারে অংশ নেওয়া ৯৪ শতাংশ প্রতিনিধি বর্তমান শিশু আইনের বয়সসীমা পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। 

তারা মনে করছেন, ১৮ বছর পর্যন্ত সবাইকে শিশু হিসেবে গণ্য করার ফলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় বড় ধরণের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বিচারক, পুলিশ এবং আইনজীবীরা বর্তমানের এই বৈশ্বিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে আইনের অসঙ্গতি দূর করার ওপর জোর দিচ্ছেন।

কমিশনের গবেষণায় দেখা যায়, টঙ্গী ও যশোরের দুটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বর্তমানে ৮৭৩ জন শিশু অবস্থান করছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ অর্থাৎ ৩৯৩ জনের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। এমনকি ১৮ বছরের বেশি বয়সী ৬৯ জন ব্যক্তিকেও এসব কেন্দ্রে পাওয়া গেছে। 

সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, এই শিশুদের মধ্যে ২০৫ জন হত্যার অভিযোগে এবং ২০৪ জন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়াও চুরি, ছিনতাই, মাদক এবং অস্ত্র আইনের মামলায় অনেকে আটক রয়েছে। টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা মাত্র ৩০০ হলেও সেখানে প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক শিশু রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।আইন বিশ্লেষক ও গবেষক অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ ফউজুল আজিম জানিয়েছেন, কিশোররা ঠিক কেন এসব অপরাধে জড়াচ্ছে তার মূল কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। 

তিনি মনে করেন, আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বা মামলার তদন্ত দীর্ঘায়িত হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনের মতে, সংশোধনাগারগুলোর পরিবেশ উন্নত না হওয়ায় শিশুরা সেখান থেকে অপরাধী মানসিকতা নিয়েই ফিরছে। বর্তমান শিশু আইন ২০১৩ এবং ১৮৭৫ সালের মেজরিটি অ্যাক্টের মধ্যে বয়সের যে বৈপরীত্য রয়েছে, তা নিরসনের তাগিদ দিয়েছে আইন কমিশন। 

গবেষণায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন আইনে শিশুর সংজ্ঞার ভিন্নতা থাকার ফলে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বয়স নির্ধারণ করা হলেও স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যারা বড় ধরণের অপরাধে জড়াচ্ছে তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া কেমন হবে তা নিয়ে নতুন করে ভাবছে কমিশন। 

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে সমাজের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দ্রুত আইনি কাঠামো সংস্কার এবং সংশোধনাগারগুলোকে আধুনিকায়ন করাই এখন সময়ের বড় দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আইনি ব্যবস্থায় যে বড় সংস্কারের কথা উঠছে, সেখানে কিশোর অপরাধের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।