এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বড় অংকের বাজেট সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে এশীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। একই সঙ্গে শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিচ্ছে বর্তমান সরকার।
শনিবার ৪ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এআইআইবি-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে যে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এআইআইবি বিশেষ বাজেট সাপোর্ট প্রদান করবে। এই অর্থায়ন মূলত জলবায়ু সহনশীল এবং পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।
বিশেষ করে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) খাতের সম্প্রসারণে এই ব্যাংকটি বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহী। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য সৌর শক্তি থেকে নিশ্চিত করা, যাতে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।বৈঠকের আলোচনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব মিল-কারখানা বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো দ্রুত সচল করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
এতে করে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে যেমন প্রাণসঞ্চার হবে, তেমনি বেকারদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পুরোনো ও স্থবির হয়ে পড়া প্রকল্পগুলোকে নতুন করে সচল করার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, দেশীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিত সহায়তায় বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে আসন্ন বাজেটের আকার কিংবা জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অর্থমন্ত্রী। তিনি কেবল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার এবং বেসরকারি খাতের যৌথ প্রচেষ্টায় দেশের এই সাময়িক সংকট দ্রুতই কেটে যাবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের এই ইতিবাচক সাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এআইআইবি-এর এই সহায়তার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপও কিছুটা কমতে পারে। বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন