এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের আসন্ন জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও এই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন আজ রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মূলত ভোটগ্রহণের আগে ও পরে নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে শেরপুর-৩ আসনটি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ার কারণে আইনি বাধ্যবাধকতায় সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা সম্ভব হয়নি।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী সেনাবাহিনী সীমান্তের আট কিলোমিটারের ভেতরে সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে পারে না বিধায় তাদের পরিবর্তে বিজিবিকে নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত পুরো নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত টহল ও তদারকি করবেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান ১৬ প্লাটুনে প্রায় ৩২০ জন বিজিবি সদস্য বর্তমানে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। বিজিবির পাশাপাশি নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ১০টি দল সার্বক্ষণিক কাজ করবে। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও চারটি দল রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ও তার আগে-পরের সময়টুকুতে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি ও র্যাব সম্মিলিতভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
উল্লেখ্য যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের আকস্মিক মৃত্যুর কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয় যার আলোকে আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদ ছাড়াও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শেরপুর-৩ আসনটি দুটি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। আগামী ৯ এপ্রিল মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এই জনপদে নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের কোনো গোলযোগ যেন না হয় সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট উপহার দিতে তারা বদ্ধপরিকর এবং এর জন্য সকল ধরণের প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারেন সেই পরিবেশ তৈরিতে কোনো আপস করা হবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকাজুড়ে এখন নির্বাচনী আমেজ ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক বিশেষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন