এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সরকারি স্থাপনায় একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর শাহজালাল বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে পোশাকে ও সাদা পোশাকে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এই উচ্চমাত্রার সতর্কতার তথ্য নিশ্চিত করেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা সম্বলিত চিঠি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) পাঠানো হয়েছে।
চিঠি পাওয়ার পর থেকেই দেশের সব বিমানবন্দরে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল (আগমণী) ও ডিপারচার (বহির্গমন) গেটগুলোতে তল্লাশিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
সন্দেহভাজন কোনো কিছু নজরে আসবামাত্রই দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি ইউনিটকে।বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদিও এখনো সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি, তবুও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব বিমানবন্দরে রাতে নিয়মিত বিমান ওঠানামা করে না, সেখানেও রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠির পাশাপাশি সিভিল এভিয়েশন নিজস্ব নিয়মিত নজরদারি কার্যক্রমকেও এই সময়ে আরও গতিশীল করেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) কামরুল আহসানের সই করা একটি দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে গত ২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) এই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে যে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং তারা জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর স্থাপনা, উপাসনালয় এবং বিনোদন কেন্দ্রের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলার পরিকল্পনা করতে পারেন। বিশেষ করে গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সদস্য ইশতিয়াক আহম্মেদ সামীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পরই এই সতর্কতা জারি করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রুখতে বর্তমানে গোয়েন্দা তথ্যের সর্বোচ্চ সমন্বয় সাধন করা হচ্ছে। দেশের প্রধান বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখতে বিমানবন্দর এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনসহ আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ যাত্রীদেরও সতর্ক থাকার এবং নিরাপত্তা তল্লাশিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন