সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

‘এলপিজি কার্ড’ কী এবং কারা পাবেন? জানুন বিস্তারিত

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম

‘এলপিজি কার্ড’ কী এবং কারা পাবেন? জানুন বিস্তারিত

এলপিজি কার্ডের ঘোষণা

দেশের সাধারণ নারীদের রান্নাবান্নার কষ্ট লাঘব এবং জ্বালানি খাতে খরচ কমিয়ে আনতে এক নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবারের নারীপ্রধানদের জন্য ইতিপূর্বে চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ডের সফলতার পর এবার সাধারণ গৃহিণীদের কল্যাণে বিশেষ ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এই নতুন প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এলপিজি কার্ডের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন যে এটি মূলত মা-বোনদের রান্নার গ্যাসের উচ্চমূল্যের চাপ থেকে মুক্তি দেবে। বিশেষ করে গ্রামের নারীরা যারা দীর্ঘ সময় ধরে লাকড়ি বা খড়কুটো জ্বালিয়ে রান্না করতে গিয়ে ধোঁয়ার কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন, তাদের জন্য এই কার্ডটি আশীর্বাদ হয়ে আসবে। 

এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারী নারীরা নির্ধারিত ডিলার বা পয়েন্ট থেকে প্রচলিত বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারবেন।সরকারের এই নতুন সুবিধার আওতায় কারা আসবেন তা নিয়েও স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের সব নারী সমাজই এই কার্ডের লক্ষ্যমাত্রা। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের দুস্থ নারী এবং শহরের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণীরা যারা এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়লে সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খান, তারা এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন। পরিবারের মাসিক বাজেটে রান্নার জ্বালানি বাবদ যে বড় খরচ হয়, তা এই কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের প্রসঙ্গ টেনে আরও জানান যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে যেভাবে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দিয়ে নারীদের সন্তান পালন ও ক্ষুদ্র খামার গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, এলপিজি কার্ডও ঠিক সেভাবে দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কার্ড বিতরণের নীতিমালা দ্রুতই চূড়ান্ত করা হবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

যশোরের এই জনসভায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে দেশের প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এলপিজি কার্ড চালুর মাধ্যমে একদিকে যেমন জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে, অন্যদিকে রান্নার ধোঁয়া থেকে মুক্তি পেয়ে নারীরা দীর্ঘমেয়াদী রোগবালাই থেকেও রক্ষা পাবেন। আগামী বাজেটে এই খাতের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন যে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের নারী উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।