এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১০:৪০ এএম
পাবনার ঈশ্বরদীতে আজ মঙ্গলবার দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে নতুন এক ইতিহাসের সূচনা হয়েছে। সাধারণ একটি গাড়ির জ্বালানি ট্যাঙ্কি পূর্ণ করতে যেখানে কয়েক লিটার ডিজেল লাগে, সেখানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাত্র সাড়ে ৪ গ্রামের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট প্রায় ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমান শক্তি উৎপন্ন করতে পারে।
জ্বালানি হিসেবে তেল, গ্যাস কিংবা কয়লার ব্যবহার যখন বিশ্বজুড়ে সীমিত হয়ে আসছে, তখন বাংলাদেশ ইউরেনিয়াম ব্যবহারের চূড়ান্ত স্তরে পা রাখল।
আজ মঙ্গলবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে এই শক্তিশালী জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ব্যবহারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলো বাংলাদেশ।বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিউক্লিয়ার ফুয়েলের শক্তি অন্যান্য প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় অনেক গুণ বেশি।
একটি সাড়ে চার গ্রাম ওজনের ক্ষুদ্র ইউরেনিয়াম পেলেট যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, তার জন্য প্রায় ৪০০ কেজি কয়লা বা ৩৬০ ঘনমিটার গ্যাসের প্রয়োজন হতো। ডিজেলের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিনশ কেজি বা ৪১৭ লিটার। অর্থাৎ এক কেজি নিউক্লিয়ার জ্বালানির সক্ষমতা প্রায় ৬০ টন জ্বালানি তেল অথবা ১০০ টন কয়লার সমান।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই পারমাণবিক জ্বালানি এমনভাবে তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয়েছে যাতে কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে না পড়ে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য স্থাপিত নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টরের বহু স্তর নিরাপত্তার প্রথম ধাপ হলো এই ফুয়েল পেলেট। এটি একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয়, ফলে তেজস্ক্রিয়তা পেলেটের ভেতরেই আবদ্ধ থাকে। দ্বিতীয় ধাপে এই পেলেট জিরকোনিয়াম অ্যালয়ের তৈরি আস্তরণ দিয়ে মোড়ানো থাকে, যা তেজস্ক্রিয়তা বের হতে বাধা দেয়।
চুল্লিপাত্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানি স্থাপন করা হলে তা থেকে বিপুল পরিমাণ তাপ তৈরি হবে। সেই তাপে পানি থেকে উৎপন্ন বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘোরানো হবে এবং সেখান থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। কয়লা কিংবা তেলের বিশাল স্তূপ ছাড়াই মাত্র কয়েক কেজি ইউরেনিয়ামের শক্তিতে বছরের পর বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে দেশ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন