শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

পরমাণু বিশ্বে যুক্ত হলো বাংলাদেশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

পরমাণু বিশ্বে যুক্ত হলো বাংলাদেশ

রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিং উদ্বোধন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজাত ক্লাবে নাম লেখালো বাংলাদেশ। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ এবং কারিগরি ধাপ পেরিয়ে কেন্দ্রটি এখন পরীক্ষামূলক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করল।

মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাআভ। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বাংলাদেশকে স্বাগত জানান।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই কেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম দেশে আসে। এতদিন সর্বোচ্চ সতর্কতায় সংরক্ষিত থাকার পর মঙ্গলবার সেটি রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল বা চুল্লিপাত্রে বসানোর কাজ শুরু হয়। পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ভিভিইআর-১২০০ শ্রেণির জেনারেশন ৩ প্লাস রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। আইএইএ-র সব শর্ত পূরণ করায় গত ১৬ এপ্রিল রূপপুর কর্তৃপক্ষকে জ্বালানি লোডিংয়ের লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী জুলাই বা আগস্ট মাসের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে। এক বছর পর প্রথম ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে সেখান থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে দেশ। এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করবেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, রিঅ্যাক্টর ভবন, টারবাইন ভবন ও কুলিং সিস্টেমসহ মোট ৩৮৯টি অবকাঠামোর ভৌত নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন। জ্বালানি লোডিংয়ের পর ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের পাওয়ার বৃদ্ধি করা হবে এবং নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হবে। জাতীয় গ্রিডে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ পেতে প্রায় ১০ মাস সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।

রূপপুর প্রকল্পের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৬২ সালে পাবনার রূপপুরকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপযুক্ত স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। পরবর্তীতে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমান সরকারের সময় এটি বাস্তবে রূপ নিল। প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিটের মাধ্যমে এই কেন্দ্র থেকে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।