শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি ড. ইউনূসের শ্রদ্ধা

জাতীয় ডেস্ক

মে ১, ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি ড. ইউনূসের শ্রদ্ধা

মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ভোরের আলো ফোটার আগেই যারা কাজে নেমে পড়েন— মাঠে, কারখানায় ও গার্মেন্টসে যাদের শ্রমে অর্থনীতির ভিত দাঁড়িয়ে আছে, তারাই প্রকৃত অর্থে দেশের চালিকাশক্তি। 

তবে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রাপ্য স্বীকৃতি অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।শুক্রবার (১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন। 

মে দিবস সংক্রান্ত ওই পোস্টে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন তিনি। ড. ইউনূস বলেন, পরিবার-পরিজন ছেড়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রবাসীরা প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান। এই অর্থই আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে সচল ও সমৃদ্ধ রাখছে।

দেশের অভ্যন্তরে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের কথা উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, পোশাক শ্রমিক, কৃষক, নির্মাণ ও পরিবহন শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আমাদের অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি। নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নারী শ্রমিকরা একই কাজের জন্য এখনো পুরুষদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। শ্রমশক্তিতে তাঁদের অংশগ্রহণ সমান বা অনেক ক্ষেত্রে বেশি হলেও তাঁদের অবদান যথাযথ মূল্যায়ন পায় না।

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বার্তায় বর্তমান সময়ের একটি নতুন চ্যালেঞ্জের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের ফলে আগামী এক প্রজন্মের মধ্যেই কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তবে প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব এড়িয়ে এর ইতিবাচক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ড. ইউনূস বলেন, অটোমেশনকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে শ্রমিকরা ঝুঁকিপূর্ণ ও মর্যাদাহীন কাজ থেকে মুক্তি পায় এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষের সৃজনশীলতা বিকাশ ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

মে দিবসের বার্তায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যেখানে প্রত্যেক মানুষ নিজের পছন্দ অনুযায়ী কর্মজীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। তিনি এমন একটি সমাজের কথা বলেন যেখানে চাইলে যে কেউ নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ পাবে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।