সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পুলিশে বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে কী বলছেন বিশ্লেষকরা?

জাতীয় ডেস্ক

মে ৫, ২০২৬, ১০:১৭ এএম

পুলিশে বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে কী বলছেন বিশ্লেষকরা?

বাধ্যতামূলক অবসরে প্রশাসন।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়া কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়টি প্রশাসনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত ১০ দিনের ব্যবধানে ৩০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে এই ধারায় অবসরে পাঠানো হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও অবসর—এগুলো মন্ত্রণালয়ের রুটিন কাজ এবং সবই আইনানুগভাবে করা হচ্ছে। বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল কি না, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, বিভাগীয় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

কারো প্রতি যাতে অবিচার না হয়, সে বিষয়টি বিধি মোতাবেক দেখা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার জনস্বার্থে তাকে যেকোনো সময় অবসরে পাঠাতে পারে। 

এই ধারায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত এই বিধানটির কারণেই দীর্ঘ সময় চাকরিতে থাকা অনেক কর্মকর্তা বর্তমানে অবসরের বিষয়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বাধ্যতামূলক অবসরের ঘটনা ঘটে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসন ক্যাডারের ২৯ জন এবং পুলিশের ৫১ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠায়। বর্তমান সরকারের আমলেও তিন দফায় পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপিসহ ৩৫ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। 

এর মধ্যে সর্বশেষ গত রোববার পুলিশের ১৬ ডিআইজিকে এই ধারায় অবসরে পাঠানো হয়।বর্তমানে পুলিশের তিনজন ওএসডি এবং ১১৩ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত রয়েছেন। ২৫ বছর চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করা এসব কর্মকর্তার অতীত কর্মকাণ্ড যাচাই করা হচ্ছে। বিগত বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে তাদের ভূমিকা এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি আচরণ কেমন ছিল, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিয়ে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ জানান, কোনো চৌকস কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠালে বাহিনীর ওপর তার প্রভাব পড়ে। তবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় হওয়া চুক্তি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। চাকরিকে রাজনীতিকীকরণ থেকে বের করে আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ঢালাওভাবে এই ধারার ব্যবহার নিয়ে মন্তব্য করেছেন সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার এবং প্রশাসন বিশ্লেষক মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া। তারা জানান, যারা নির্দিষ্ট দলের কর্মীর মতো আচরণ করেছেন বা অন্যায় করেছেন, শুধু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যৌক্তিক। একতরফাভাবে সব কর্মকর্তাকে শাস্তির আওতায় আনলে তা ভবিষ্যৎ প্রশাসনের জন্য একটি ক্ষতিকর নজির স্থাপন করবে।