মে ১৩, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুদিনের প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে বড় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাথমিক পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে, পে-কমিশনের সুপারিশের আলোকে এই বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল একবারে নয়, বরং ধাপে ধাপে কার্যকর করার একটি কৌশল নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে মূল বেতনের প্রায় অর্ধেক বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে। এটি কমিশনের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কাঠামোর তুলনায় কিছুটা কম হলেও দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য তা উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনবে।
পে-কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থের পরিমাণ তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। সবার জন্য পূর্ণ কাঠামো একবারে বাস্তবায়ন করতে বড় অঙ্কের বাড়তি ব্যয়ের প্রয়োজন হবে।
এ কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নিয়েছে বলে জানা গেছে।নতুন পে-স্কেলের পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক বেতন কাঠামো নিয়েও কাজ এগিয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন মিললে আগামী বাজেটেই নতুন পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে ধাপে ধাপে বাকি বেতন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ভাতা সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে প্রথম ধাপের সুবিধা আগামী অর্থবছর থেকেই কার্যকর হতে পারে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নবম পে-স্কেল এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন