রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে : মাহদী আমিন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৯, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে : মাহদী আমিন

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী করতে সরকার এক সাহসী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে। সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই নতুন রূপরেখার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মাহদী আমিন বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে শুধু সনদনির্ভর না হয়ে বাস্তব জীবনের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সেজন্য শিক্ষাক্রমকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

নতুন এই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। 

উপদেষ্টা জানান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যায়ক্রমে ১৪ লাখ ট্যাব সরবরাহের বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।দীর্ঘ ১৬ বছরের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সরকার বিশেষজ্ঞ ও পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে সংস্কার কাজ চালাচ্ছে। নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, তাই তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের পরিবর্তে আগামী বছর থেকে এই সংস্কার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।

শিক্ষায় উদ্ভাবনী চিন্তা বিকাশে ‘স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ নামে জাতীয় কর্মসূচি চালু করা হবে, যেখানে সেরা উদ্ভাবনী ধারণার জন্য সিড ফান্ডিংয়ের সুযোগ থাকবে। এছাড়া কারিগরি শিক্ষাকে সম্মানজনক শিক্ষাধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে স্কিলস কম্পিটিশন ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের মতো আয়োজন করা হবে। পরিবেশ রক্ষায় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যা শিল্প খাতের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলবে।