রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আগামী শুক্রবার ঢাকায় আসছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১০, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

আগামী শুক্রবার ঢাকায় আসছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার

ছবি : সংগৃহীত

আগামী শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তিনি ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেটার্স অব ক্রিডেনশিয়ালস বা পত্রাধিকার গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। 

এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পালনের আইনি ও কূটনৈতিক অনুমোদন লাভ করেন। গত এপ্রিল মাসে নিয়োগ ঘোষণার পর থেকে তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এখন ঢাকায় এসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে ক্রিডেনশিয়ালস উপস্থাপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি মিশন শুরু করবেন।

দীনেশ ত্রিবেদী ১৯৫০ সালের ৪ জুন নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার বয়স ৭৬ বছর। তিনি গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও কলকাতায় বেড়ে উঠেছেন এবং বাংলা সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, অস্টিন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কংগ্রেস দিয়ে শুরু করে জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। 

তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজ্যসভায় দুবার এবং লোকসভায় ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তিনি রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৬-১৭ সালে অসামান্য সংসদ সদস্য পুরস্কার লাভ করেন।

সাধারণত কূটনৈতিক পদে পেশাদার কূটনীতিকদের পাঠানো হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বেছে নিয়েছে নয়াদিল্লি। তিনি বাংলা ভাষায় সাবলীল।

তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও সংস্কৃতির গভীর জ্ঞান রাখেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের কয়েকটি মূল চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি নবায়ন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য এমন একজন রাজনৈতিক দূত প্রয়োজন ছিল যিনি উভয় দেশের রাজনৈতিক মহলে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন। এই নিয়োগ একটি কৌশলগত পদক্ষেপ এবং এর মাধ্যমে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে সরাসরি আলোচনা সহজ হবে।