জুন ১১, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের সাধারণ মানুষের প্রধান মাথাব্যথার কারণ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে অর্থাৎ ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রস্তাবিত এই বাজেটে বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং কৃষিভিত্তিক পণ্যের ওপর থেকে উৎসে কর কমানোর এক বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় নতুন বাজেটে প্রায় ৬০টি অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের করহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার কড়া প্রস্তাব রাখা হয়েছে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর সূত্রে এই করছাড় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত জানা গেছে।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর সর্বোচ্চ ১ শতাংশ, ২ শতাংশ এবং ৫ শতাংশ পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন হারে আদায় করা হয়। নতুন বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী এই সব জটিল বিদ্যমান হার এক লাফে কমিয়ে এককভাবে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই যুগান্তকারী সুবিধার আওতায় থাকা প্রধান প্রধান পণ্যের তালিকায় রয়েছে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল এবং বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় বীজ। একই সঙ্গে দেশের বাজারে প্রাণিজ আমিষের জোগান ব্যাপক হারে বৃদ্ধির লক্ষ্যে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছকেও এই বিশেষ কর রেয়াত সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বিগত বছরগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ জনজীবনে যে তীব্র নাভিশ্বাস উঠেছিল, নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে করের বাড়তি বোঝা কমলে ব্যবসায়ীদের সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় অনেক হ্রাস পাবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত খুব দ্রুত পৌঁছাবে। তবে সাধারণ ভোক্তারা যেন এই করছাড়ের কাঙ্ক্ষিত সুফল সরাসরি উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য কঠোর বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সর্বোচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন