রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রায় ১৯ লাখ মাকে প্রতি মাসে ভাতা দেবে সরকার

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

প্রায় ১৯ লাখ মাকে প্রতি মাসে ভাতা দেবে সরকার

দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের অবহেলিত নারী ও শিশুদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ানোর জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেটে একগুচ্ছ মানবিক ও জনমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। নতুন এই সামাজিক নিরাপত্তা রূপরেখার অংশ হিসেবে দেশজুড়ে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সরাসরি ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন ভাগ্যবঞ্চিত মাকে প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা হারে নিয়মিত নগদ ভাতা দেওয়া হবে। 

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নারীদের স্বাবলম্বী করার এই বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান।এর পাশাপাশি কর্মজীবী অভিভাবকদের নিশ্চিন্তে কাজে যোগদানের সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন ৬০টি আধুনিক শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে।অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ ও শহরের স্বল্প আয়ের নারীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ বা ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে ১০ লাখ ৪০ হাজার দরিদ্র পরিবারকে প্রতি মাসে জনপ্রতি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। 

এর পাশাপাশি সমাজে অবহেলিত ও অসহায় বিধবা এবং স্বামী নিগৃহীতা ভাতাভোগী নারীর সংখ্যা বর্তমান মেয়াদে আরও এক লাখ বাড়িয়ে সর্বমোট ৩০ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। এই মানবিক সমাজকল্যাণ কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া দেশের প্রতিটি অসহায় নারীকে প্রতি মাসে ৭০০ টাকা হারে নিয়মিত রাষ্ট্রীয় ভাতা পৌঁছে দেওয়া হবে।

বর্তমান নতুন বিএনপি সরকারের পক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল মেগা বাজেটে দেশের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ তহবিল বরাদ্দের ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মান বাড়ার পাশাপাশি কর্মজীবী নারীদের কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এই নতুন কল্যাণমুখী বাজেট পরিকল্পনা আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে সফলভাবে কার্যকর হলে তা দেশের গ্রামীণ সামষ্টিক অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সামাজিক বিশ্লেষকেরা।