শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

বাঙালি মুসলমানদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

বাঙালি মুসলমানদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত

কোনো ধরনের মৌলিক বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাঙালি মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর এই অনিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপের কারণে দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্য রেখায় বহু পরিবার চরম মানবিক সংকটে আটকে পড়েছে। 

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরাও জানিয়েছে যে চলতি জুনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তারা ওপারে থাকা বাহিনীর এমন অন্তত ২১টি পুশ-ইনের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।এসব অবৈধ প্রচেষ্টায় শিশু ও নারীসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থানের কারণে সীমান্তে এই জটিলতা আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। গত মার্চ মাসে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর রাজ্যের নতুন কর্তৃপক্ষ অনুপ্রবেশকারীদের আটকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই সেখানে বসবাসরত বাংলাভাষী মুসলিমদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া ও আটকের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে যথাযথ নথিপত্র ও আধার কার্ড থাকার পরেও অনেককে আইনি সুরক্ষা না দিয়ে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে সে দেশের পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীরা।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও সদর উপজেলা সীমান্তে সম্প্রতি এমন বেশ কয়েকটি ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত ৫ জুন শিশুসহ ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হলে সীমান্তে টানা ৭৫ ঘণ্টার এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন তৈরি হয়। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটানো এই পরিবারগুলোকে শেষ পর্যন্ত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত নিতে বাধ্য হয় ওপারকার বাহিনী। এরপর গত ৮ জুনও এক গর্ভবতী মা ও শিশুসহ ১১ জনকে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা শূন্য রেখায় আটকে রাখার পর পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে কোনো আইনি ও প্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্ত দিয়ে জোর করে পাঠানো কোনো মানুষকে তারা গ্রহণ করবে না। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে যে আন্তর্জাতিক নাগরিক অধিকার সনদ এবং জাতিগত বৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ভারতের এই আচরণ সম্পূর্ণ অবৈধ। যথাযথ আইনি সুযোগ ও আইনজীবীর সহায়তা না দিয়ে এভাবে মানুষকে বহিষ্কার করা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সংস্থাটি দুই দেশের সরকারকে অবিলম্বে এই অমানবিক পুশ-ইন বন্ধ করে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ