জুন ১৭, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত হওয়া নতুন বাণিজ্য চুক্তি অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থানকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করবে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে দেশীয় কলকারখানায় উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে।
এই সমঝোতা স্মারকটি দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বুধবার জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলনের এক সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই তথ্য জানান।বর্তমান সরকার দেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণকে অন্যতম প্রধান জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বা বেজা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট বা সিইপিএ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ সম্পাদনের আইনি কার্যক্রমও চূড়ান্ত পর্যায়ে এগিয়ে চলছে। সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন বড় সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য দ্বিপাক্ষিক ফ্রন্টে রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতির বাস্তবতায় আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে সব পক্ষের সাথে গঠনমূলক আলোচনা চলমান রয়েছে।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উপস্থিতি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করতে সরকার কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করে আসছে। বর্তমান সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশের ২০টি মিশনে বাংলাদেশের নিজস্ব মালিকানাধীন ভবনে চ্যান্সারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মিশনগুলোর ভাড়া বাবদ সরকারকে বার্ষিক প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয় যা দীর্ঘমেয়াদে হ্রাস করতে নিজস্ব স্থাপন প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন