সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হজের খরচ আরও কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

হজের খরচ আরও কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার সংসদে প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র হজের সার্বিক ব্যয় কমিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে বর্তমান সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হজ ব্যবস্থাপনাকে আগামীতে আরও বেশি সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব করতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক পর্যায়ে বিভিন্ন জোরালো উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ যাতে আরও অনেক বেশি যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী করা যায় সেই লক্ষ্যে এখন থেকেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। 

বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের টেবিলে উত্থাপিত এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই সংসদীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।হজ একটি দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা হওয়ায় এর মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশই মূলত সৌদি আরব সরকার নির্ধারণ করে থাকে।

এর মধ্যে মিনা ও আরাফাতের তাবু ভাড়া, অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যয়, মোয়াল্লেম সার্ভিস চার্জ, মক্কা-মদিনার আবাসন ব্যয় এবং ভিসা ও ইন্স্যুরেন্স ফি সরাসরি অন্তর্ভুক্ত থাকে। বাকি মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যয় বাংলাদেশ অংশে হয়ে থাকে যার একটি বড় অংশই মূলত বিমান ভাড়ার খসড়ায় চলে যায়। বিগত ২০২৫ সালে সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের দাপ্তরিক মূল্য ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। তবে সরকারের বিভিন্ন কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্যোগের ফলে ২০২৬ সালে এই ব্যয় ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। 

ফলে চলতি বছরের সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ ১৬৭ টাকা যার মধ্যে কুরবানির খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের নির্ধারিত হজ প্যাকেজে সৌদি আরব অংশের ব্যয় ৩ লাখ ৭৯৭ টাকা এবং বাংলাদেশ অংশের ব্যয় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬9 টাকা। এর মধ্যে শুধু বিমান ভাড়ার খাতের ব্যয়ই হচ্ছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা। 

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের জন্য সহজলভ্য, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সৌদি আরবের নির্ধারিত ব্যয় বিবেচনায় রেখে আগামী ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ আরও কমানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।