জুন ৩০, ২০২৬, ১২:০৬ এএম
দেশের তৃণমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীকে সমান সুযোগ দিয়ে একটি বৈষম্যহীন, দক্ষ এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ অভিনব অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রগাঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রদর্শনীর চূড়ান্ত বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশসেরা কৃতি ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেন।এর আগে প্রধানমন্ত্রী দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একযোগে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন ইনোভেশন স্টল ঘুরে দেখেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ভাবনার কথা তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চায় যেখানে শুধু মুখস্থ বিদ্যা থাকবে না, বরং দক্ষতা, যোগ্যতা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং মানবিক মূল্যবোধের এক চমৎকার সুসমন্বয় ঘটবে।
তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিগত বছরগুলোর সৃজনশীল কাজের উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতে যখন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এ ধরনের বিজ্ঞান উৎসবের অভাব ছিল, তখন এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর ধরে তরুণদের মেধা বিকাশে ভার্চুয়াল সায়েন্স প্রজেক্টসহ নানা কার্যক্রম চালিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার বৈষম্যহীন শিক্ষার অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে স্কুল, ও মাদ্রাসার সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে বাংলাদেশ নারী শিক্ষায় কতটা প্রগতিশীল অবস্থানে এগিয়ে যাচ্ছে।
ফাইনাল পর্বে স্থান পাওয়া প্রতিটি উদ্ভাবনী প্রজেক্টকে নিয়মিত নার্সিং করার পাশাপাশি প্রয়োজনে বড় অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার এবং প্রতি মাসে এ বিষয়ে আপডেট নেওয়ারও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ভালোবাসার নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যেই প্রতিটি দলে ৩ জন শিক্ষার্থীর সাথে ২ জন শিক্ষককে রাখা হয়েছিল এবং সেরা শিক্ষকদের ‘সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। দেশের ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তাদের গভীর পরিবেশ সচেতনতার অনন্য প্রমাণ দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির কৃতি শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিজয়ী দলকে ২০ হাজার টাকার চেক, মেডেল ও সনদপত্র এবং বিজয়ী শিক্ষকদের ৩০ হাজার টাকার চেক ও প্রামাণ্য সনদপত্র যৌথভাবে প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মাইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এডুকে এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী এই বিশাল স্টার্টআপ ও সায়েন্স প্রজেক্ট কর্মসূচির সফল আয়োজন করা হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন