জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
জাতীয় সংসদে বুধবার বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও উত্তপ্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে ‘ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ বিল ২০২৬’ পাস হয়েছে। বিলটি উত্থাপনের পর কোনো ধরনের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পর্যালোচনা বা সংশোধনী প্রস্তাবের সুযোগ না দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে পাস করায় বিরোধী দলের সদস্যরা কঠোর সমালোচনা করেন।বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন সংসদ কাজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সংসদে বিলটি তোলার পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান আপত্তি তুলে বলেন, আইন প্রণয়নকারী হিসেবে তাদের মৌলিক অধিকার হলো বিলটি যাচাই-বাছাই করা, যা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ৯ জুলাই মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া বিলটি সম্পর্কে সদস্যদের তিন দিনের নোটিশ বা নথিপত্র যথাযথভাবে সরবরাহ করা হয়নি। এটি স্থায়ী কমিটিতে না পাঠিয়ে সরাসরি পাসের তাড়াহুড়া কেন, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহও বিলের বিভিন্ন ধারার ওপর সংশোধনী প্রস্তাবের সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানান।জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো আইন নয়। বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের কারণে সৃষ্ট জটিলতা ও কার্যক্রমের ওভারল্যাপিং দূর করার লক্ষ্যে পৃথক কর্তৃপক্ষগুলোকে একীভূত করে একটি শক্তিশালী কর্তৃপক্ষ গঠনের জন্য এই বিলটি আনা হয়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সংসদীয় ঐতিহ্যের স্বার্থে তাড়াহুড়া পরিহার করা উচিত ছিল। এতে অনেক ক্ষেত্রে অধিকার ও দায়িত্ব লঙ্ঘিত হয়, যা সংসদের জন্য ভালো দৃষ্টান্ত নয়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার জবাবে বিরোধী দলের সদস্যদের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো ভবিষ্যতে যৌক্তিক হলে বিবেচনায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের উপস্থিতিতে মন্ত্রীর এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন