জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
স্বাস্থ্যগত জটিলতা ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কারণে চলতি মাসেই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করে বঙ্গভবন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে হৃদরোগ ও স্নায়বিক দুর্বলতার পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটায় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর আগে ওই দেশেই তিনি বাইপাস সার্জারিসহ হৃদরোগের বিভিন্ন চিকিৎসা সম্পন্ন করেছিলেন।আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির বিদায়ের এই বিষয়টি দৃশ্যমান হতে পারে।
বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে যে চলতি মাসে দুফায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হলে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই রিপোর্ট ভালো আসেনি। এর আগে যুক্তরাজ্য থেকে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে আসলেও নতুন করে স্নায়বিক সমস্যা ধরা পড়ায় পরিবার ও চিকিৎসকরা তার চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে রাষ্ট্রের কিছু সীমাবদ্ধতা এবং কম সময়ের ব্যবধানে পুনরায় বিদেশ যাত্রার নানামুখী জটিলতার কথা চিন্তা করেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির এই ব্যক্তিগত অভিপ্রায়ের কথা ইতিমধ্যে বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিকটজনদের জানানো হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলতে থাকে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্য সফরের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ ও ফোনালাপের অভিযোগ ওঠার পর সরকার ও রাষ্ট্রপতির সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। গত জুন মাসে বাজেট অধিবেশন ও অর্থবিল সই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদে গেলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বলে খবর প্রকাশিত হয়। আস্থার এই সংকট এবং বাড়তে থাকা রাজনৈতিক দূরত্বের কারণেই মূলত তার বিদায়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
এর আগে সরকারের মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যরা জানিয়েছিলেন যে রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক অভিভাবক এবং তিনি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক নিয়মে শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব। তবে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমদিকে তার প্রস্থান নিয়ে আলোচনা হলেও সেফ এক্সিট ও চতুর্দশ নির্বাচনের হিসাব-নিকাশের কারণে বিষয়টি কিছুদিন স্থবির ছিল। পরবর্তীতে সম্পর্কের চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দুতে তোলপাড় শুরু হয়।
সংবিধানের একশো তেইশ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাংবিধানিক কার্যাবলী পরিচালনা করবেন। ২০২৩ সালের চব্বিশ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাসেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে বর্তমান শারীরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বঙ্গভবন ত্যাগ করতে যাচ্ছেন। অতীতে এক আলাপচারিতায় তিনি বলেছিলেন যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে থেকে রাষ্ট্রের কল্যাণে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং এখন সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন