জুলাই ২৯, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান করে মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে প্রতিবাদের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়। হত্যা ও নির্যাতনের বিচার না করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপহাসের প্রতিবাদে তখন এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।সেদিনের সেই প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছিল সারা দেশ।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে সরকার দেশব্যাপী শোক পালনের ঘোষণা দিলেও শিক্ষার্থীরা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নতুন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুখে ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে ছবি তোলা এবং তা অনলাইনে ব্যাপকভাবে প্রচারের আহ্বান জানান। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রফাইল ছবি পরিবর্তন করে সংহতি প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, রাজধানীর পল্টন, সেগুনবাগিচা, সায়েন্সল্যাবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে রাস্তায় নেমে আসেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও তল্লাশির মধ্যেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া ও লাঠিচার্জের মুখেও শিক্ষার্থীরা পিছু হটেনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। রাজধানীজুড়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়। এর পাশাপাশি আদালত বিভাগ কোটা আন্দোলনের সমন্বয়কদের গোয়েন্দা কার্যালয়ে আটকে রেখে বিবৃতি আদায়ের সমালোচনা করে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক বৈঠকে জামায়াত ও শিবিরকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
ছাত্র-জনতার আন্দোলন, হত্যাকাণ্ড ও সামগ্রিক সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবিতে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। সব মিলিয়ে জুলাই মাসের সেই উত্তাল দিনগুলো দেশের রাজনীতি ও জনজীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন