শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

চব্বিশের ৩০ জুলাইয়ের আন্দোলন ও স্মরণীয় নানা ঘটনা

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই ৩০, ২০২৬, ১০:৪২ এএম

চব্বিশের ৩০ জুলাইয়ের আন্দোলন ও স্মরণীয় নানা ঘটনা

ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসজুড়ে ত্রিশে জুলাই দিনটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ওই দিন নিহতদের স্মরণে এবং ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মুখে লাল কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছিলেন। আন্দোলনের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল লাল রঙে রাঙিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

সেদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই প্রতিবাদে অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র, শিক্ষক, শিল্পী, সংস্কৃতি কর্মী, সাংবাদিক ও লেখকরা যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে আন্দোলনবিরোধী ও সরকারি সমর্থকরা তাদের প্রোফাইল কালো রঙে পরিবর্তন করেছিলেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, ঊনত্রিশে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় ২৬৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বড় একটি অংশের কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল না, যেখানে একটি নির্দিষ্ট অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

আইনগত ও মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলে দেশের বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবী ও আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ডিবি হেফাজতে থাকা সমন্বয়কদের মুক্তি বা আটক দেখানো এবং আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশসংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়ে যায়। বিচার বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা। এ সময় জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও একটি বিবৃতিতে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।

পরিস্থিতির মধ্যেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সারা দেশে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। আট দফা দাবি আদায়ের এই কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন আদালত প্রাঙ্গণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস ও রাজপথে পালনের ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানানো হয়। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সেই দিনগুলো দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক গভীর রেখাপাত করে গেছে।