রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মুরগির খাঁচার মতো কক্ষ, বছরের পর বছর আলোহীন বন্দিশালা

জাতীয় ডেস্ক

আগস্ট ১, ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

মুরগির খাঁচার মতো কক্ষ, বছরের পর বছর আলোহীন বন্দিশালা

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরার র‍্যাব-ওয়ান সদর দপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল বা আয়নাঘরের ভেতরের ভয়াবহ ও অমানবিক চিত্র পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা। শনিবার সকালে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি দল এই গোপন বন্দিশালা সরেজমিন ঘুরে দেখেন। গুমের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে এই পরিদর্শন করা হয়।

পরিদর্শনে বন্দিশালাটির ভেতরে মুরগির খাঁচার মতো ছোট ও আলোহীন কক্ষের বীভৎস রূপ প্রকাশ পায়।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-ওয়ানের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারসহ পরিদর্শনকারী দলে সদস্য বিচারপতি ও প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দিশালার কিছু কক্ষের উচ্চতা মাত্র একচল্লিশ থেকে তিপান্ন ইঞ্চি, যেখানে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানো বা শোয়ার কোনো সুযোগ নেই। 

দিনের পর দিন মানুষকে এসব অন্ধকার ও বাতাসহীন সেলে আটকে রাখা হতো। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনেরাও এই পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন।দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বন্দিশালাটি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। 

মামলার নথিতে এই টিএফআই সেলকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মোট সতেরো জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে দশজন অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।তদন্ত কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে এই বিচারিক পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় এই পরিদর্শনের বিবরণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।