আগস্ট ১০, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
দেশের মানুষের অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নতুন আইনি কাঠামোর অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকার মানবাধিকার সুরক্ষায় অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে এই সভায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদের বাধ্যবাধকতা পূরণের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত খসড়া আইনের বিধান অনুযায়ী, একজন চেয়ারপার্সন এবং চারজন কমিশনারের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন গঠিত হবে। এই পাঁচ সদস্যের কাঠামোতে ন্যূনতম একজন নারী সদস্যের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাছাড়া কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সুশীল সমাজের নাগরিক প্রতিনিধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা এই বাছাই কমিটিতে সক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
নতুন প্রণীত এই আইনে কমিশনের সার্বিক কার্যপরিধি সুস্পষ্ট করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য অভিযোগ দায়েরের ব্যবস্থা পূর্বের চেয়ে অনেক সহজ করা হয়েছে। যেকোনো অভিযোগের কার্যকর তদন্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তদন্ত চলাকালীন ভুক্তভোগী ব্যক্তির তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বা সম্ভাব্য যেকোনো ক্ষতি রোধ করতে কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রদানের বিশেষ আইনি ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে।
হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু কিংবা গুমের মতো গুরুতর অপরাধ রোধে একটি নতুন ইউনিট কাজ করবে। জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকলের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট গঠনের সুস্পষ্ট বিধান এই খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন