আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তের পরপরই মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে রদবদল আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে।বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের পর দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে। অন্যদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের সংসদীয় ও প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তার ছেড়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে দ্রুত এই পরিবর্তন আনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ছয় মাস পর মূল্যায়ন হবে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন পারফরম্যান্স মূল্যায়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, মূল্যায়নের ভিত্তিতে অন্তত তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রীকে বাদ দেওয়ার তালিকা প্রস্তুত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বাদ পড়তে যাওয়া মন্ত্রীদের তালিকায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নাম রয়েছে। বিভিন্ন বক্তব্য ও কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তাদের নিয়ে সরকারের উচ্চমহলে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং তা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কও তার দায়িত্বে থাকার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত করার প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতকে পূর্ণ মন্ত্রী করার চিন্তা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এছাড়া নতুন মন্ত্রী হিসেবে বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
তবে মন্ত্রিসভার আকার কতটা বাড়বে এবং কাদের স্থান দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। ওয়াকিবহাল সূত্র বলছে, বাদ পড়া ব্যক্তিদের সংখ্যা খুব বেশি হলে সরকারের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সরকারপ্রধান। তাই যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলনামূলক কম, তাদের সতর্ক করে সুযোগ দেওয়ার নীতিও নেওয়া হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারের নির্দিষ্ট সময় পর কাজের মূল্যায়ন করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারভুক্ত।বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশেদুজ্জামান মিল্লাত জানান, সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন মনে করেন, সরকারের কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন