সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১১:৪১ এএম
বিশ্বের একচল্লিশটি দেশে পর্যায়ক্রমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার নিবন্ধন সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সতেরোটি দেশের পঁচিশটি বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের নাগরিক সেবা আরও দ্রুত, সহজ এবং সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্বভর করতে নির্বাচন কমিশনের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দূতাবাসগুলোতে আবেদন গ্রহণ করা হলেও জাতীয় পরিচয়পত্র মূলত ঢাকায় নির্বাচন কমিশন থেকে ইস্যু করা হয়। পাসপোর্ট সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করা হবে, যার আওতায় ঢাকা থেকে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ দল সরাসরি ওই দেশগুলোর মিশনগুলোতে গিয়ে আটকে থাকা পাসপোর্ট দ্রুত নিষ্পত্তিতে কাজ করবে।
বর্তমানে যেসব মিশনে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু রয়েছে, সেখানে অনলাইনে আবেদন ও সুবিধাজনক সময়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া কনস্যুলার সেবা আরও সহজ করতে অনলাইন সত্যায়ন ও ই-অ্যাপোস্টিল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, ফলে সেবাপ্রার্থীরা ঘরে বসেই ডিজিটাল সনদ গ্রহণ করতে পারছেন। এতে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনায় পাসপোর্ট, ভিসা এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য যাচাই আরও সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি সমন্বিত অনলাইন ডাটাবেজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মিশনে কার্যকর অনলাইন গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম চালু থাকার কথাও জানান তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন