সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আকাশপথে যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সফর বিনিময় ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ করা প্রয়োজন। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি এই আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই সুফল পাবে।
পাকিস্তানের তৈরি পোশাক ও কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্যের স্থানীয় চাহিদা তুলে ধরে তিনি দুই দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষার তাগিদ দেন। হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানি পণ্য নিয়ে আগামী অক্টোবরে ঢাকায় একটি একক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হবে। একই সাথে বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে পাকিস্তানেও অনুরূপ প্রদর্শনী আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী তৈরিতে যৌথ বিনিয়োগে পাকিস্তানি উদ্যোক্তাদের গভীর আগ্রহ রয়েছে।
ঢাকা ও করাচীর মধ্যে পুনরায় সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হওয়ায় বাণিজ্য ও চিকিৎসা পর্যটনে ইতিবাচক গতি এসেছে জানিয়ে এই রুটে উড্ডয়ন সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন হাইকমিশনার। বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের মানের প্রশংসা করে পাকিস্তানি বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর পরামর্শ দেন ইমরান হায়দার।
জবাবে রাষ্ট্রপতি জানান, বাংলাদেশের সিরামিক সামগ্রী, পান, কৃষিজাত পণ্য ও বিশ্বমানের ওষুধ পাকিস্তানে রপ্তানির প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি দুই দেশের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষার পরিসর আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
হাইকমিশনার বাংলাদেশে তাঁর দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে আগামী দিনে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বহুমাত্রিক রূপ নেবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন