বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই

মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় থাকবে না কোনো ভুয়া নাম, ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় থাকবে না কোনো ভুয়া নাম, ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ নির্মোহভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

বুধবার (৭ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত তালিকা প্রণয়নের কৌশল ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী নিজেই।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আহমেদ আযম খান বলেন, সরকার ইতিহাসের দায় থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। কারণ স্বাধীনতার ইতিহাস প্রতিটি নাগরিকের আত্মপরিচয়ের ঠিকানা। স্বাধীনতা একবারই অর্জিত হয়েছে এবং জাতি হিসেবে দেশকে যুগ যুগ ধরে মাথা উঁচু করে টিকে থাকতে হবে। তাই এই গৌরবের ইতিহাসে কোনো মিথ্যা, অপবাদ বা কলঙ্ক রাখা যাবে না।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, প্রকৃত কোনো মুক্তিযোদ্ধা যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়েন এবং কোনো অমুক্তিযোদ্ধা বা ভুয়া ব্যক্তি যেন তালিকায় না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আবেদনগুলো কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

বর্তমানে সংরক্ষিত প্রায় দুই লাখ তিন হাজার মুক্তিযোদ্ধার তালিকাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো ভুয়া ব্যক্তি তালিকায় স্থান পাবে না।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কোনো অসঙ্গতি বা বিতর্ক রেখে যেতে চায় না বর্তমান সরকার।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রম করার পথে এসেও নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির আবেদন চলতে থাকা কোনোভাবেই সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এই প্রক্রিয়া স্বাধীনতার পরপরই শেষ হওয়া উচিত ছিল।

তিনি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে জানান, ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের পর থেকে নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলো নিবিড় তদন্ত, তথ্য অনুসন্ধান ও সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা হবে।

মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহান স্বাধীনতার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের সঙ্গে বিগত দিনগুলোতে হাজার হাজার অমুক্তিযোদ্ধা যুক্ত হয়েছে। শহীদদের সংখ্যা ও তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক রাস্তাঘাট, সংবাদমাধ্যম ও জাতীয় সংসদে বারবার আলোচিত হয়েছে। এই বিতর্কের কারণেই একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকেও মামলার মুখে পড়তে হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করছে যাতে জাতির কাঁধ থেকে ইতিহাসের দায় চিরতরে দূর হয়।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে এই মন্ত্রণালয়কে মুক্তিযোদ্ধা তৈরির কারখানায় পরিণত করা হয়েছিল, যা ভবিষ্যতে আর হতে দেওয়া হবে না। আবেগ বা দলীয় আনুগত্যের বদলে নিরপেক্ষ প্রমাণ ও যাচাই-বাছাইকেই একমাত্র মানদণ্ড ধরা হবে।

বিজয়ের পর অস্ত্র লুটের বিষয়ে তদন্ত হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, একযোগে সব কাজে হাত না দিয়ে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার সুরাহা করা হবে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকারে থাকাকালীন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু সাইয়েদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) আমিনুল ইসলাম, ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, প্রবীণ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

এছাড়া ড. রেদোয়ান আহমেদ, সাংবাদিক শাহেদ আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, রুহিন হোসেন প্রিন্স, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ বিশিষ্ট গবেষক ও কর্মকর্তারা সভায় বক্তব্য রাখেন।