বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুর প্রথম ইউনিটে ক্রিটিক্যালিটির প্রস্তুতি

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুর প্রথম ইউনিটে ক্রিটিক্যালিটির প্রস্তুতি

ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকল্পটি এখন ‘স্টেজ বি-টু’ বা চুল্লির ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে প্রবেশের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বা বাডরা এই আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিলেই পরমাণু বিভাজনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপে চুল্লির অভ্যন্তরে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর ধারাবাহিক বিভাজন ঘটানো হবে।

এর মাধ্যমে পারমাণবিক চুল্লিতে অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত, নিরাপদ ও স্থায়ী প্রক্রিয়ায় তাপশক্তি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সূচনা ঘটবে। এর আগে প্রথম ইউনিটের যাবতীয় জটিল কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলতার সাথে শেষ করা হয়েছে।

চলমান বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি নিরসনে দেশের মানুষের গভীর দৃষ্টি এখন পাবনার এই মেগা প্রকল্পের দিকে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএর কঠোর নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করে এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘স্টেজ বি-ওয়ান’-এর সমস্ত কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি সবশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও সফলভাবে নিরসন করেছেন দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা।

পরবর্তী ধাপ হিসেবে আসছে বি-টু পর্যায়। এই ধাপে মূলত প্রাথমিক বাণিজ্যিক ও পরীক্ষামূলক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে তোলা হয়। এরপরই চুল্লিতে পরমাণু বিভাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। ধাপে ধাপে উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছামাত্রই জাতীয় সঞ্চালন লাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন জানান, বাডরার কাছে যাবতীয় নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি পাওয়ামাত্রই দল পরবর্তী কর্মযজ্ঞ শুরু করতে প্রস্তুত। পূর্ববর্তী সব কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং বাডরার অনুমোদন পেলেই বি-টু ধাপে চুল্লি সক্রিয় করা হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাডরাও জমা দেওয়া প্রযুক্তিগত নথিপত্র পর্যালোচনা করে সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নির্বিঘ্নে ছড়িয়ে দিতে সঞ্চালন অবকাঠামোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রূপপুর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত আটটি নতুন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।