অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির কার্যকর প্রয়োগ বাড়ানো এবং এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার বিশেষ আহ্বান জানিয়ে আজ বুধবার দেশে পালিত হচ্ছে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস। পণ্য ও সেবামুখী কার্যক্রমের গুণগত মান রক্ষায় বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে প্রতিবছর এই দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে।
এ বছর দিবসটির বৈশ্বিক মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তিনটি মান সংস্থা—ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (আইএসও), ইন্টারন্যাশনাল ইলেকট্রোটেকনিক্যাল কমিশন (আইইসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) যৌথভাবে বিশ্বজুড়ে দিবসটি উদযাপন করছে। বৈশ্বিক এই উদ্যোগের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালন করা হচ্ছে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে জ্বালানি খাতের সংস্কার এখন অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৭ নম্বর লক্ষ্য অর্থাৎ সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিকে এবারের আয়োজনে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই প্রতিপাদ্যের তাৎপর্য অত্যন্ত জোরালো। কেবল বিদ্যুৎ বা জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোই শেষ কথা নয়, বরং উৎপাদিত প্রতিটি ইউনিটের অপচয়হীন ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সার্বিক অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। সাশ্রয়ী, টেকসই, নির্ভরযোগ্য এবং আধুনিক জ্বালানি ব্যবস্থায় সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মানদণ্ড একটি বাস্তবমুখী ও কার্যকর ভিত্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
জাতীয় মান প্রণয়নকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিতে সোলার প্যানেল, চার্জ কন্ট্রোলার, ইনভার্টার এবং ব্যাটারির জন্য মোট ৭৯টি বাংলাদেশ মান প্রণয়ন করেছে। বিশ্ববাজারের মানদণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এসব নির্ধারিত মান নিয়মিত আধুনিকায়ন করা হয়। সংস্থাটি এ পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর সর্বমোট চার হাজার ৬৩১টি মান প্রণয়ন সম্পন্ন করেছে।
পণ্যের সামগ্রিক মান নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ের সোলার প্যানেল টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে সংযুক্ত রয়েছে জার্মান প্রযুক্তির সান সিমুলেটর। সর্বোচ্চ এক হাজার ওয়াট ক্ষমতা পর্যন্ত সৌর প্যানেলের সক্ষমতা এই ল্যাবে পরীক্ষা করা যায়। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ এবং আধুনিক অপটিক্যাল ক্যালিব্রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই পরীক্ষাগারে গুণগত মান নিশ্চিত করা হচ্ছে।
৫৭তম এই দিবস ঘিরে রাজধানীতে বিশেষ আলোচনা সভা এবং সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে বিএসটিআইয়ের উদ্যোগে মূল আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচকের দায়িত্বে উপস্থিত থাকছেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক। এতে সভাপতিত্ব করবেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক।
কেন্দ্রীয় দপ্তরের পাশাপাশি বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতেও অনুরূপ আলোচনা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচারের বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে। নাগরিকদের মান সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে পাঠানো হচ্ছে বার্তা। রাজধানীর প্রধান প্রধান চত্বর ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শোভা পাচ্ছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তথ্যবহুল প্ল্যাকার্ড।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন