সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জুলাই আন্দোলনে আহত হয়েছে প্রায় দুই হাজার শিশু-কিশোর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ৩, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

জুলাই আন্দোলনে আহত হয়েছে প্রায় দুই হাজার শিশু-কিশোর

ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, এটি অসংখ্য পরিবারের জন্য এক অবর্ণনীয় বেদনার ইতিহাস। আন্দোলনের সময় বহু শিশু-কিশোর চিরতরে তাদের স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছে। কেউ বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে, কেউবা স্কুল থেকে ফেরার পথে গুলির শিকার হয়েছে।সরকারি নথিতে সব আহত শিশুর নিখুঁত হিসাব না থাকলেও প্রাপ্ত তথ্য এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকা ও জন্মসাল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ওই আন্দোলনে ১৮ বছরের কম বয়সী অন্তত এক হাজার ৮৭৬ জন শিশু-কিশোর আহত হয়েছে এবং শহীদ হয়েছে ১২৮ জন শিশু। আহতদের মধ্যে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি — এক হাজার ৮৪ জন। এর পরেই রয়েছে ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৭১৩ জন শিশু।

সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছে ঢাকা জেলায়, যার সংখ্যা ৩৪৪ জন।চট্টগ্রাম, বগুড়া, কুষ্টিয়া ও নরসিংদীসহ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই শিশু-কিশোররা হতাহত হয়েছে। আহত শিশুদের অনেকেই আর কখনোই স্কুলে ফিরতে পারেনি। কারো শরীরের অর্ধেক অবশ হয়ে গেছে, আবার কেউ মাথার ভেতর বুলেটের স্প্লিন্টার নিয়েই বড় হচ্ছে।

চার বছরের শিশু আবদুল আহাদ নিজের বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে পরদিন মারা যায়।বাবার সঙ্গে আইসক্রিম কিনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া ছোট্ট বাসিত খান মুসার শরীরের ডান পাশ এখন পুরোপুরি অবশ। সে কথা বলতে পারে না, নাকের নল দিয়ে তাকে খাবার দিতে হয়। অন্যদিকে গোলাপ হোসেন নামের আরেক শিশুর মাথায় এখনও আটটি বুলেট রয়ে গেছে, স্মৃতিশক্তি হারিয়ে তাকে এখন জীবিকার সন্ধানে কাজ করতে হচ্ছে।

শারীরিক ক্ষতের পাশাপাশি মানসিক ক্ষত বা ট্রমা এখন এসব শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) কামাল আকবর জানান, আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার শিশু আহত হয়েছে। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন চিকিৎসা নয়, বরং পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। তিনি একটি ডে কেয়ার ও ট্রমা হিলিং সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

শৈশবের এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক চিকিৎসক মুনতাসির মারুফ জানান, আঘাতের শিকার শিশুরা পরবর্তী সময়ে ‍‍`পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিস-অর্ডার‍‍` বা পিটিএসডি-তে আক্রান্ত হতে পারে। এই রোগে ভয়ংকর স্মৃতি বারবার ফিরে আসে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি একই রকম আতঙ্ক ও বেদনা অনুভব করে। শৈশবের এই ট্রমা ভবিষ্যতে তাদের সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং আত্মহত্যার প্রবণতাও বাড়িয়ে দিতে পারে।এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে ট্রমার শিকার শিশুদের চিন্তা ও আবেগ প্রকাশের সুযোগ দেওয়া এবং তাদের মানসিক অবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।