সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভারতের কনসেন্ট নিয়ে আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না: হাসনাত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ০৪:৪৮ পিএম

ভারতের কনসেন্ট নিয়ে আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না: হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, তাঁর দল জনগণের ক্ষমতা নিয়ে রাজনীতিতে আসতে চায়। কোনো 'আনহোলি নেক্সাস', মিডিয়া, মিলিটারি বা গণতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে কিংবা পাশের দেশ ভারতের কনসেন্ট নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চান না।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এ 'আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়' সাক্ষ্য দিতে এসে একটি ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার সাক্ষ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং সাবেক সরকারের ভূমিকার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ১৪ জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি এবং রাজাকারের বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করা হয়। সেটির প্রতিক্রিয়ায় সারাদেশের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন এবং তারা সেই বক্তব্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে নিঃশর্ত মাফ চাইতে বলেন। এই ঘটনার পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ছাত্রলীগ ওবায়দুল কাদেরের ইন্ধনে শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালায়। এই হামলায় নারী শিক্ষার্থীদেরকেও নিপীড়ন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এই হামলার সময় শিক্ষার্থীদেরকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং সেখানে প্রশাসনিক যোগসাজশে ১৫ তারিখে শিক্ষার্থীদের ওপরে নির্যাতন চালানো হয়। এর প্রতিবাদে ১৬ জুলাই সারাদেশে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ মিছিল হয়। সেই মিছিলেই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ক্যাম্পাস কম্পাউন্ডে গুলি করে আবু সাঈদকে হত্যা করা হয়। একই দিনে চট্টগ্রামে ছাত্রদলের ওয়াসিমকেও হত্যা করা হয়। সেদিন সারাদেশে মোট ছয়জন শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, ১৭ জুলাই নিহতদের গায়েবানা জানাজা দিতে গেলে এজেন্সির চাপ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যোগসাজশ এবং ইউজিসির নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, গায়েবানা জানাজায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য সদস্য সমন্বিতভাবে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। হাসনাত আবদুল্লাহ কঠোর মন্তব্য করে বলেন, শেখ হাসিনা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি মিলিটারি, মিডিয়া এবং জুডিশিয়ারি—সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রণ করতেন বলেও অভিযোগ করেন। তাঁর এই বক্তব্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রতিবেশী দেশের প্রভাব এবং সাবেক সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।