ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ১১:৩৯ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের বীর সেনানি শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল খুনি ও নেপথ্যের কুশীলবদের শনাক্ত করতে না পারাকে সরকারের চরম ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।
জনতার ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থা মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত মূল হত্যাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারে সরকার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
এই ব্যর্থতা জনমনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। পুঞ্জীভূত এই ক্ষোভ যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে।”মিডিয়া ও ইনসাফ প্রসঙ্গে: বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কিছু মিডিয়ার ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা ‘জঙ্গিবাদ’ ও ‘রাজাকার’ ট্যাগ দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নকে উসকে দিয়েছিল, তাদের ওপর জনগণের ক্ষোভ থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমরা নিজের জীবনের শত্রুর প্রতিও ইনসাফ চাই। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা জ্বালাও-পোড়াও নীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। তিনি মাহমুদুর রহমান ও আবুল আসাদের ওপর অতীতে হওয়া নির্যাতনের সময় মিডিয়া জগতকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টিকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য ‘ইতিবাচক বার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তারেক রহমান জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রত্যাশার প্রশ্নে কী ভূমিকা রাখেন, তার ওপরই এই প্রত্যাবর্তনের প্রভাব নির্ভর করবে।ফ্যাসিবাদী শক্তির বিষয়ে সতর্কবার্তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শত্রু ও মিত্র চেনার ক্ষেত্রে কোনো ভুল করা চলবে না। ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হলে জাতিকে অচিরেই এর ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে।
অধিবেশনে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। সভায় ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন