সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

‘ভোট আমানত, খেয়ানতকারীর হাতে দেওয়া যাবে না’: গোলাম পরওয়ার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

‘ভোট আমানত, খেয়ানতকারীর হাতে দেওয়া যাবে না’: গোলাম পরওয়ার

ভোটকে পবিত্র আমানত হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এই আমানত উপযুক্ত ও সৎ ব্যক্তির হাতেই দিতে হবে। খেয়ানতকারীর হাতে ভোটের আমানত তুলে দিলে সেই খেয়ানতের দায় ভোটারদের ওপরও বর্তাবে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দিনব্যাপী খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোটের ধর্মীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ভোট মানেই শক্তি। একজন রিকশাচালকের ভোটের মূল্য যেমন, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রপতির ভোটের মূল্যও সমান। এই শক্তি যদি বেনামাজি, অসৎ, চাঁদাবাজ কিংবা নেশাখোরের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 তবে তারা জনগণের ওপর জুলুম চালাবে। আমার দেওয়া ভোটে কেউ নির্বাচিত হয়ে দুর্নীতি করলে আমিও সেই গুনাহের অংশীদার হবো। বিপরীতে আল্লাহভীরু মানুষকে ভোট দিলে নেকির ভাগ ভোটাররাও পাবেন।মসজিদের ইমামরাই হবেন পার্লামেন্টের ইমাম’ বিগত ৫৪ বছরের শাসকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এতদিন আলেম-ওলামাদের শুধু মসজিদ ও মাদরাসার গণ্ডিতে আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এবার পরিবর্তন আসবে। তিনি ঘোষণা দেন, যারা মসজিদের ইমাম হবে, তারাই রাষ্ট্রের ইমাম হবে; যারা জানাজার ইমাম হবে, তারাই পার্লামেন্টেরও ইমাম হবে।

তিনি কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সৎ ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে আকাশ ও পৃথিবীর সব বরকতের দরজা খুলে দেওয়া হবে। আমরা সেই ‘বরকতের বাংলাদেশ’ চাই।সংখ্যালঘুদের অভয় ও নিরাপত্তা হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের ধর্ম, সংস্কৃতি বা অধিকার ক্ষুণ্ন হবে—এমন প্রচারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইসলামের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তা হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবার ঘরে কল্যাণ বয়ে আনবে।”তিনি আরও বলেন, হিন্দু ভাইদের ভয় দেখানো হচ্ছে যে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ধর্ম পরিবর্তন হয়ে যাবে বা মেয়েরা বের হতে পারবে না। এগুলো অপপ্রচার।

আমাদের এলাকায় অনেক হিন্দু নেতা ও শিক্ষক স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করছেন। জামায়াত কখনো হিন্দুদের জমি বা ঘের দখল করে না। যারা গত ৫৪ বছর ক্ষমতায় ছিল, তারাই এসব অপকর্ম করেছে।”নির্বাচনী প্রেক্ষাপট মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, এবার জামায়াতে ইসলামীসহ ১২টি সমমনা দল একযোগে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০টির বেশি আসনে সৎ ও আল্লাহভীরু মানুষ পাঠাতে পারলে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাগুরখালী, উলা ও ভাণ্ডারপাড়াসহ ডুমুরিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এসব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় জামায়াত ও হিন্দু কমিটির নেতারা। সমাবেশে জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি ডা. হরিদাষ মণ্ডল, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মণ্ডলসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।