রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এই অবহেলা আর মেনে নেব না : রুমিন ফারহানা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১০:০১ এএম

এই অবহেলা আর মেনে নেব না : রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সরাইল ও আশুগঞ্জের দীর্ঘদিনের অবহেলা আর মেনে নেবেন না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের দুর্গম গ্রাম পরমানন্দপুরে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর এই জনসভার মাধ্যমেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন। 

রুমিন ফারহানা বলেন যে সারা বাংলাদেশের সব বিভাগে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও সরাইল ও আশুগঞ্জ কেন আজও অবহেলিত তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই দুর্গম জনপদের ভাগ্য বদলাতে তিনি এবার নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন বলে জানান।

জনসভায় রুমিন ফারহানা বলেন যে যদি তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা হয় তবে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও সরকারকে এ অঞ্চলের উন্নয়নে বাধ্য করবেন। তার মতে উন্নয়ন কোনো দলের একক সম্পত্তি হতে পারে না এবং জনগণের অধিকার আদায়ে তিনি সর্বোচ্চ সোচ্চার থাকবেন। 

তিনি আরও জানান যে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কেবল সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর না করে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। এলাকার জীবনমান বদলাতে নিজের সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করার অঙ্গীকার করেন এই জনপ্রিয় নেত্রী।নিজের প্রচারণার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন যে পরমানন্দপুর আসার পথে তাকে যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে তা কল্পনা করা কঠিন। দেড় ঘণ্টা গাড়ি ২০ মিনিট নৌকা এবং প্রায় এক ঘণ্টা অটোরিকশায় বালুর রাস্তা দিয়ে পথ চলে তিনি এখানে পৌঁছেছেন। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে এই এলাকাটি অনেকটা দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে যার ফলে আধুনিক জীবনযাত্রার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এই অবহেলার দেয়াল ভাঙতেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি বড় ধরণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ঘোষণা করেন যে ভূইশ্বর থেকে পরমানন্দপুর পর্যন্ত সড়কে একটি বড় সেতু নির্মাণ করা হবে যা তার প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার। 

সেতুর পাশাপাশি এই পুরো এলাকার রাস্তাঘাট পাকা করার দায়িত্বও তিনি গ্রহণ করবেন। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন যে হাঁস হচ্ছে সমৃদ্ধি ও নতুন শান্তির প্রতীক। তাই ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য একবার হাঁস মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বক্তৃতা শেষে তিনি নারী ও পুরুষ ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পাকশিমুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে একজন পরিচিত নেত্রীকে কাছে পেয়ে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। রুমিন ফারহানা জোর দিয়ে বলেন যে তিনি নির্বাচিত হলে কথা নয় বরং কাজের মাধ্যমে এলাকার চিত্র বদলে দেবেন।