রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হবিগঞ্জে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াত আমিরের বড় বার্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১১:৩১ এএম

হবিগঞ্জে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াত আমিরের বড় বার্তা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন যে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে দেশকে আর কোনোভাবেই বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না। শনিবার বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে মেধার কোনো বিকল্প নেই এবং আগামীর বাংলাদেশে মেধার ভিত্তিতেই যোগ্য ব্যক্তিরা তাদের কর্মসংস্থান খুঁজে পাবেন। 

শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক চা বাগানগুলোকে আধুনিকায়ন করে স্থানীয় অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন করা হবে যা এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করবে।

জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন যে রাজনীতি তাদের কাছে কোনো পেশা নয় বরং এটি জনগণের সেবা করার একটি মহান কর্তব্য। বিগত বছরগুলোতে এক শ্রেণির মানুষ সাধারণ ভিক্ষুকদের কাছ থেকেও চাঁদাবাজি করেছে বলে তিনি তীব্র ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করেন। 

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে তারা যদি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসেন তবে দেশে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি চিরতরে বন্ধ করা হবে। অসৎ ও দুর্নীতিবাজ নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তন হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি ঘোষণা করেন যে তারা নির্বাচিত হলে প্রতি বছর জনগণের কাছে নিজেদের আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব প্রদান করবেন।দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন যে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বর্তমানে দেশকে গ্রাস করে ফেলেছে যার সম্পূর্ণ দায়ভার বিগত ক্ষমতাধরদের ওপর বর্তায়। 

দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থে যারা মা-বোনদের বিভিন্ন সময়ে অপমান ও নিগৃহীত করেছে তাদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন যে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এদেশের মানুষ বারবার জীবন দিলেও অসৎ রাজনীতির কারণে সেই বৈষম্য আজও বিদ্যমান রয়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামী একটি সুস্থ ও মেধাভিত্তিক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে। হবিগঞ্জের এই নির্বাচনি জনসভায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে যা আগামী নির্বাচনের আগে বিশেষ রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।