ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এবার বড় ধরনের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক। শনিবার নির্বাচন কমিশনে এসে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন এবং ভোট পুনর্গণনার আনুষ্ঠানিক দাবি জানান। মামুনুল হকের প্রধান অভিযোগ হলো ফলাফল বিবরণীতে ব্যাপক ওভাররাইটিং এবং ব্যালট পেপারের নকশাগত ত্রুটি।
তিনি মনে করেন পরিকল্পিতভাবে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব কাজ করা হয়েছে যা জনরায়ের বিরুদ্ধে যায়। মামুনুল হকের দাবি অনুযায়ী ভোট গণনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার পোলিং এজেন্টদের নিয়মবহির্ভূতভাবে সরিয়ে দিয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের কেন্দ্রে ঢোকানো হয়েছিল।
এমনকি অনেক কেন্দ্রে এজেন্টদের স্বাক্ষর ছাড়াই একতরফাভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ব্যালট পেপারের নকশা নিয়ে যা ভোটারদের দ্বিধায় ফেলেছে।
মামুনুল হক জানান যে তার আসনে নয়জন প্রার্থী থাকায় ব্যালটে দুটি কলাম করা হয়েছিল। এতে প্রথম কলামের বিপরীতে দ্বিতীয় কলামের কিছু ঘর খালি থাকায় সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হয়ে ভুল স্থানে সিল মেরেছেন। এর ফলে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রচুর সংখ্যক ভোট বাতিল হয়েছে যা সরাসরি তার চূড়ান্ত ফলাফলকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। মামুনুল হক জানান যে তার আসনে বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮১টি অথচ তার পরাজয়ের ব্যবধান মাত্র ২ হাজার ৩২০ ভোট। তার দাবি বাতিল হওয়া ভোটের ৮০ শতাংশেরও বেশি ছিল তার নিজস্ব প্রতীকের পক্ষে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে বেশ কিছু ফলাফল শিটে নির্দিষ্ট প্রার্থীর ভোটের ঘরে সংখ্যা কাটাকাটি বা ওভাররাইটিং করা হয়েছে যা কারচুপির স্পষ্ট প্রমাণ দেয়। মাওলানা মামুনুল হক ঢাকার একটি আসনের উদাহরণ টেনে বলেন যে ভোটারের অভিপ্রায় শনাক্ত করা গেলে সেই ভোট গণনা করার আইনি বিধান রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যদি বাতিল ভোট এবং ওভাররাইটিং হওয়া ভোটগুলো পুনরায় স্বচ্ছভাবে গণনা করা হয় তবে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধান তার পক্ষে আসবে এবং ফলাফল পুরো উল্টে যাবে।
এ বিষয়ে তিনি এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। ভোটের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে এবং জনরায়ের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। নির্বাচনের দিন রাতেই তিনি কমিশনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছিলেন এবং এখন তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অন্যায়ের প্রতিকার চান। এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে যে তারা এই স্পর্শকাতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন